পুরনোতেই ভরসা রাখলো কানাইঘাট আওয়ামী লীগ                 সোহেল রানা কানাইঘাট উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী                 কানাইঘাটের ৯নং রাজাগঞ্জ ইউপি আ’লীগের ৬৯ সদস্য বিশিষ্ট কমিটির অনুমোদন                 অপটিক্যাল বাজারের উদ্বোধনে মেয়র আরিফ ও আসাদ                 আবরার হত্যাকারীদের শাস্তি ও বেগম জিয়ার মুক্তিতে সিলেটে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদলের বিক্ষোভ মিছিল                 আল আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংক লিঃ এর সিলেট জোনে “প্রিভেনশন অব মানি লন্ডারিং এণ্ড কমবেটিং ফাইন্যান্সিং অব টেরোরিজম” শীর্ষক কর্মশালা অনুষ্ঠিত                 আল আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংক সিলেট জোনের “প্রিভেনশন অব মানি লন্ডারিং এণ্ড কমবেটিং ফাইনেন্সিং অব টেরোরিজম” শীর্ষক কর্মশালা অনুষ্ঠিত                
২৮শে কার্তিক, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ ১৩ই নভেম্বর, ২০১৯ ইং বুধবার রাত ১০:৫৩ হেমন্তকাল

 

 

সর্বশেষ:

 

শবে বরাত ও কিছু কথা : খলিলুর রহমান

প্রকাশিত হয়েছে : ৩:১৫:৩২,অপরাহ্ন ১২ মে ২০১৭ |
এ সংবাদটি পড়া হয়েছে 559 বার
শবে বরাত ও কিছু কথা : খলিলুর রহমান

খলিলুর রহমান ::


বৃহস্পতিবার (১১মে ২০১৭) দিবাগত রাত শবে বরা’ত। বাংলাদেশ-পাকিস্তানসহ কয়েকটি মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ট দেশে প্রতিবছর রাতটি রাষ্ট্রীয়ভাবে উদযাপিত ও পালিত হয়ে থাকে। সেই হিসেবে আজ শুক্রবার সাপ্তাহিক ছুটি’র পাশপাশি শবেবরাতে’রও সরকারী ছুটির দিন। প্রশ্ন হল ‘শবে বরাত’ কি ও কেন ? ‘শব’ ফারসি শব্ধ যার বাংলা অনুবাদ ‘রাত বা রজনী’। আর ‘বরাত’ ফারসি আরবি উভয় ভাষায় ভিন্ন অর্থে ব্যবহৃত শব্দ। ফারসী ভাষায় ‘বরাত’ শব্দের বাংলা ‘ভাগ্য’। আর আরবিতে ‘বরাত’ শব্দের অর্থ ‘অপবাদমুক্তি,নি®কৃতি ও অব্যাহতি’। ফারসি যৌগিক শব্ধ ‘শবে বরাত’-এর বাংলা অর্থ দাঁড়ায় ‘ভাগ্যরজনী’। অনেকে আবার ফারসি ‘শবে বরাত’ শীর্ষক যৌগিক শব্দটির আরবি অনুবাদ করেন -‘লাইলাতুল বরাত’ বলে। তখন এর অর্থ বা বাংলা অনুবাদ ‘ভাগ্যরজনী’ না হয়ে “অপবাদমুক্তির বা অব্যাহতির রাত” হয়ে যায়। মোট কথা ‘শবে বরাত’ ফারসি ভাষায় যে অর্থে ব্যবহৃত হয়, আরবিতে সে অর্থে ব্যবহৃত না হয়ে অন্য অর্থে চলে যায়। সুতরাং বাংলায় ‘ভাগ্যরজনী’ অর্থে ফারসি যৌগিক শব্দ ‘শবে বরাত’কে আরবীতে ‘লাইলাতুল বরাত’ বলে অনুবাদ করাটা আদৌ সটিক নয়।

এখন আসুন আমরা ‘শবে বরাত’ নামে যে রাতটি রাষ্ট্রীয় ও ধর্মীয়ভাবে উদযাপন করি, পবিত্র কোরআন ও সুন্নাহ-এ ‘শবে বরাত বা লাইলাতুল বরাত’ নামে বিশেষ কোন রাত আছে কি না ? যতদূর তালাশ করে দেখা যায় পবিত্র কোরআন ও সুন্নাহ-এ ‘শবে বরাত বা লাইলাতুল বরাত’ নামে চন্দ্র বর্ষের শা’বান মাসে কোন ফজিলতপূর্ন রাতই নেই। ‘ভাগ্য রজনী’ অর্থে যদি কোন রাত থেকে থাকে তবে সেটা ‘ল্ইালাতুল ক্বদর বা আরবি-ফারসি সংমিশ্রনে ‘শবে ক্বদর’ই হবে। কারণ আরবিতে ‘ক্বদর’ মানে ভাগ্য ও সম্মান।
অনুসন্ধ্যানে জানা যায়, ভাগ্যরজনী অর্থে ‘লাইলাতুল ক্বদর’ নামীয় রাতটিকে প্রথমে ফারসি ভাষায় ‘শবে বরাত’ বলে অনুবাদ করা হয় এবং পরে পারস্যের বিদআ’ত পন্থীরা কোরআন ও হাদীসের অপব্যাখ্যা করে শাবান মাসের মধ্যবর্তী (১৫শাবানের পূর্বাহ্নের) রাতটিকে ‘শবে বরাত’ অভিহিত করে তা পালন করতে শুরু করেন এবং ভ্রান্তভাবে ‘লাইলাতুল ক্বদর’ এর পরিবর্তে এটার আরবি অনুবাদ করে নেন ‘লাইলাতুল বরাত’। বিদআ’ত পন্থীদের অনেকে ‘শবে বরাত’র পক্ষে দলিল হিসেবে পবিত্র কোরআনের সুরায়ে দোখান-এর ১ থেকে ৪ আয়াত পেশ করে বলে থাকেন, আয়াতসমুহে বলা হয়েছে,‘লাইলাতুম মুবারাকাহ’ অর্থাৎ একটি বরকতময় রাতে পবিত্র কোরআন নাযিল করা হয়েছে। আর এই ‘লাইলাতুম মুবারাকাহ’ হচ্ছে ‘শবে বরাত’। প্রথমতঃ এখানে আল্লাহ তায়ালা কোরআন নাযিলের এ রাতকে ‘লাইলাতুম মুবারাকাহ’ বলে অভিহিত করেছেন ‘লাইলাতুল বরাত’ বা ফারসি ভাষার ‘শবেবরাত’ বলে অভিহিত করেন নি। দ্বিতীয়তঃ কোরআন নাযিলের রাতকেতই আল্লাহ তায়ালা ‘লাইলাতুম মুবারাকাহ’ বা ‘বরকতময় রাত’ বলে অভিহিত করেছেন। অথচ কোরআন নাযিলের মাস তো চন্দ্র বৎসরের শা’বান মাস নয়। পবিত্র কোরআনের সূরা আল-বাক্বারার ১৮৫ নং আয়াতে আল্লাহ তায়ালা এরশাদ করেছেন ‘শাহরু রামাজ্বান আল্লাজী উনযিলা ফীহিল কোরআন’। অনুবাদ-“রামাযান মাস, এ মাসেই নাযিল করা হয়েছে আল-কুরআন। এতে প্রমানিত হয় যে সুরায়ে দোখান-এর প্রথমোক্ত আয়াত সমূহে (১-৪) কোরআন নাযিলের যে ‘বরকতময়’ রাতের কথা বলা হয়েছে সে রাতটি রমজান মাসেই,আদৌ শা’বান মাসের মধ্যে নয়। আর পবিত্র কোরআনের সূরায়ে আল্ক্বদর-এ (১-৫) আল্লাহ তায়ালা এরশাদ করেছেন “আমি এই কুরআন নাযিল করেছি লাইলাতুল ক্বদর-এ। আপনি জানেন লাইলাতুল ক্বদর কি ? লাইলাতুল কদর হল এক হাজার মাস অপেক্ষা উত্তম। এতে প্রত্যেক কাজের জন্য ফেরেশ্তাগণ ও রূহ অবতীর্ণ হন তাদের পালনকর্তার নির্দেশে। এই শান্তি ও নিরাপত্তা ফজর পর্যন্ত অব্যাহত থাকে”। সুতরাং পবিত্র কোরআনের সূরায়ে দোখান-এর (১-৫) আয়াত দিয়ে শবে বরাত প্রমান করা সম্ভব নয়। এই আয়াত সমূহে বর্নিত ‘লাইলাতুম মুবারাকাহ’ (বরকতময় রাত) মানে ‘লাইলাতুল ক্বদর’ বা ‘শবে কদর’ই বুঝানো হয়েছে। অতএব, পরিষ্কার যে পবিত্র কোরআনে ‘শবে বরাত’ নেই।
বিদআ’ত পন্থীরা ‘শবে বরাতে’র সমর্থনে ইবনে মাজাহ ও বাইহাকী নামের কিতাবে হযরত আলী ইবনে আবী তালেব (রাঃ) থেকে বর্নিত যে হাদীসটি উপস্থাপন করে থাকেন । বলে থাকেন সেই হাদীসে ‘লাইতান মিন নিসফি শা’বান’ অর্থাৎ শা’বানের মধ্যভাগের রাতকে ফজীলতের (মহাত্মের) রাত বলে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রথমতঃ তাদের নামাঙ্কিত ‘শবে বরাত’ বা ‘লাইলাতুল বরাত’ বলে হাদীসে কিছুই নেই। দ্বিতীয়তঃ মুহাদ্দিসীনে কেরাম (হাদীস বিশারদগন) সর্বসম্মতভাবে হাদীসটি জাল বলে অভিহিত করে বলেন,অবিকল এই মর্মের একটি হাদীস শুদ্ধতর কিতাব বুখারী ও মুসলিম শরীফে হযরত আবু হুরায়রাহ (রা.) থেকে বর্নিত হয়েছে। সেই হাদীসে বছরের প্রত্যেক রাতের শেষভাগে ইবাদত বন্দেগীর ও দোয়া প্রার্থনার কথা বলা হয়েছে। শুধু মধ্যশা’বানের রাতের কথা বলা হয়নি।
মোট কথা ‘শবে বরাত’ বা ‘লাইলাতুল বরাত’ নামে ইসলামে বিশেষ কোন রাত নেই। তবে সারা বছরের অন্যান্য রাতের ন্যায় এ রাতেও ব্যক্তিগতভাবে নফল ইবাদত ও দিনে নফল রোযা পালনে কোন বাঁধা নেই। তবে এ রাত ও এদিনকে বিশেষায়িত করে বিশেষ নামায ও রোযা পালন করা ঠিক নয়। উদযাপন আকারে ‘শবে বরাত’ পালন ইসলামে বিদআত তথা নবতর সংযোজন বলে অভিহিত করা হয়েছে।

সংবাদটি ভাল লাগলে শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  



AD

 

 

 

 

 

 

 

devolop ওয়েব হোম বিডি Mobile: 01711-370851