সাবেক মেয়র বদর উদ্দিন আহমদ কামরান আর নেই                 লকডাউনের নির্দেশনা পায়নি প্রশাসন : রেড জোন সিলেট                 বীর মুক্তিযোদ্ধার মৃত্যুতে জেলা ইউনিট কমান্ড ও স্বেচ্ছাসেবক কমিটির শোক                 আজ থেকে খুলছে ১৮ মন্ত্রণালয়ের অফিস : কাজ চলবে সীমিত                 মহানগর যুবলীগের সম্পাদক মুশফিক জায়গীরদারের ইফতার বিতরণ                 ইনজেকশন পুশ করার ৩ ঘন্টার মধ্যে সুস্থ করোনা আক্রান্ত !                 খাদ্য সামগ্রী নিয়ে অসহায়দের পাশে বিএনপি নেতা ছাত্তার                
১৭ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ ২রা ডিসেম্বর, ২০২০ ইং বুধবার দুপুর ২:৩৮ হেমন্তকাল

 

 

 

শ্রী শ্রী লোকনাথ ব্রহ্মচারী ও পাদুকা উৎসব মাহাত্ম্য

প্রকাশিত হয়েছে : ৬:৫০:৪৯,অপরাহ্ন ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২০ |
এ সংবাদটি পড়া হয়েছে 118 বার
শ্রী শ্রী লোকনাথ ব্রহ্মচারী ও পাদুকা উৎসব মাহাত্ম্য

সুনির্মল সেন : ত্রিকালদর্শী, পরম পুরুষ, মহাযোগী শ্রী শ্রী লোকনাথ ব্রহ্মচারী বাবা’র দেহ রক্ষার পরবর্তী সময়ে আসন গৃহে তাঁর বৃহৎ তৈলচিত্র প্রতিষ্ঠিত করা হয়। বাবা’র তৈলচিত্র ফটোর সম্মুখভাগ তাঁর ব্যবহৃত পাদুকাযুগল নিত্য সেবার নিমিত্তে স্থাপন করা হয়।

ব্রাহ্ম মুহুর্তে মন্দির খোলার পর হতেই আরম্ভ হয় বাবার প্রাত্যহিক সেবা, পূজা। এ সময় পৌরহিত্যগণ যথাসময়ে ও যথানিয়মে বাল্যভোগ নিবেদন করে থাকেন। প্রাত্যহিক সন্ধ্যা আরতির পর বাবা’র নাম সংকীর্ত্তন শেষে শান্তিবারি, চরণামৃত ও উপস্থিত ভক্তদের মাঝে প্রসাদ বিতরণ করা হয়ে থাকে।

অর্ধ শতাব্দির অধিককাল প্রায় গত হতে চললো, ভক্ত হৃদয়ে এক স্মরনীয় ঘটনার কথা এখনো উজ্জ্বল হয়ে রয়েছে। সে সময়টা সম্ভবতঃ বাংলা ১৯৫৪-১৯৫৫ সন বা নিকটবর্তী সনের ১২-ই ফাল্গুন প্রত্যুষে ভক্তগণ জানতে পারলেন আসন গৃহে স্থাপিত বাবা লোকনাথের ব্যবহৃত কাষ্ঠ পাদুকা যুগল যাহা নিত্য পূজা-অর্চনা হয়ে থাকে, উহা বিগত দিবস ১১ই ফাল্গুন সন্ধ্যা আরতির সময় ধুপ্তি হতে জ্বলন্ত অঙ্গার অসতর্ক মুহুর্তে নিক্ষিপ্ত হয়ে বেলভেট কাপড়ের উপর পড়ে।

যার উপর বাবা’র পাদুকা যুগল স্থাপিত ছিলো। নিক্ষিপ্ত জ্বলন্ত অঙ্গারে বেলভেট কাপড়খানা আগুনে জ্বলে পাদুকা যুগল ভস্মীভূত করে ফেলে, কিন্তু বৌলা দু’খানা ভস্মীভূত হতে পারেনি। এ ধরনের দুঃসংবাদ অচিরেই বায়ু বেগে গ্রাম হতে গ্রামান্তর ছড়িয়ে পড়ে। নারায়নগঞ্জ বারদী ও তৎসন্নিকটবর্তী অঞ্চলের এবং কয়েক ক্রোশ দূরবর্তী গ্রামে রআবাল বৃদ্ধ-বনিতা আশ্রম প্রাঙ্গনে আসিয়া জড়ো হতে থাকে। এ নিয়ে ভক্তগনের মন বিষন্ন ও দুশ্চিন্তাগ্রস্থ।

অনেক ভক্ত উক্ত ঘটনাকে সমাজের ভাবি অমঙ্গলের আশঙ্কায় বিশাদগ্রস্থ হন। কোন কোন মহিলা ভক্ত আসন ঘরের বারান্দায় দুগ্ধ ও জল ফেলে বাবা’র চরণ ধৌত করেন। সে সম বাবা’র আশ্রমের প্রধান পুরোহিত ছিলেন প্রয়াত শ্রী গোপাল চন্দ্র চক্রবর্তী। ১১ই ফাল্গুন তারিখে অপর একজন পুরোহিত বাবার মন্দিরে ভোগ নিবেদন ও সন্ধ্যা আরতির কাজে নিয্ক্তু ছিলেন। জানা যায়, তাঁর অসাবধনতায় এ ঘটনাটি ঘটে। পাদুকা ভস্মীভূত হওয়া জনিত অমঙ্গলের আশঙ্কা দূরীকরণার্থে এসময় খোল-করতাল সহযোগে যথারীতি নাম সংকীর্তনের আয়োজন করা হয়। সমস্ত দিনব্যাপাী নাম সংকীর্ত্তন চলতে থাকে এবং ভক্তগনের মাঝে প্রসাদ বিতরন করা হয়। এরপর থেকে দেশের লোকজন সকল প্রকার দুশ্চিন্তা ও বিষাদ হতে মুক্ত হন। এ ঘটনার পর হতেই প্রতি বছর ১২ই ফাল্গুন দিনটি উৎসব হিসেবে পালিত হয়ে আসছে। এই উৎসবই পরবর্তীকালে দেশবাসীর কাছে “পাদুকা উৎসব” নামে পরিচিত লাভ করে।

প্রথম কয়েকবছর বারদী ও তৎসন্নিকটবর্তী অঞ্চলে ভক্তগণ ও বিশেষভাবে নারায়গঞ্জস্থ ব্যবসায়ী ভক্তগণের উৎসাহ ও সহযোগিতায় ‘পাদুকা উৎসব’ সম্পন্ন করা হতো। ক্রমে বছর অতিক্রান্ত হতে থাকলে পাদুকা উৎসব’র আয়োজন ও ভক্ত সমাগম বাড়তে থাকে। বর্তমান সময়ে শ্রী শ্রী লোকনাথ ব্রহ্মচারীর পাদুকা উৎসব এক বিশাল উৎসবের আকার ধারণ করেছে। স্থানীয় এবং দূর-দূরান্ত হতে আগত ভক্ত সমাগমে আশ্রম ভূমি মুখরিত হয়ে উঠে। ভক্তগণ বাল্যভোগ ও রাজভোগের প্রসাদ গ্রহণ করে অপার আনন্দ লাভ করে থাকেন। এভাবেই প্রতি বছর ১২ই ফাল্গুন পাদুকা উৎসব পালনের রীতি প্রচলন হয়। উল্লেখ্য যে, বর্তমানে সিলেট সহ সারাদেশব্যাপী শ্রী শ্রী লোকনাথ ব্রহ্মচারী বাবা’র বিভিন্ন আশ্রম ও মন্দিরে মহা সমারোহে পাদুকা উৎসব পালিত হচ্ছে। এই উৎসবে জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে লোক সমাগমের উপস্থিতি লক্ষনীয়।

লেখক : সাংবাদিক, কলাম লেখক, প্রতিষ্ঠাতা আহবায়ক- শ্রী শ্রী লোকনাথ ভক্ত অনুরাগী পরিষদ, সিলেট।

সংবাদটি ভাল লাগলে শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  



AD

 

 

 

 

 

 

 

devolop ওয়েব হোম বিডি Mobile: 01711-370851