মওলানা ভাসানীর মৃত্যুবার্ষিকী                 তুমি রবে কলহাস্যে                 মৃত্যুর কয়েকদিন আগে ২ খুনি আবরারের সঙ্গে সিলেট এসেছিল                 ছাতকের রুহুল ও সাহেদ সিলেট মহানগর শ্রমিকলীগে নির্বাাচিত                 ইন্দোরগামী কামাখ্যা এক্সপ্রেসে আগুন                 গ্যাস লাইনে বিস্ফোরণ: দুই তদন্ত কমিটি                 বান্দরবানে রোহিঙ্গা-বিজিবি ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত দুই                
২রা অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ ১৭ই নভেম্বর, ২০১৯ ইং রবিবার রাত ১১:১৯ হেমন্তকাল

 

 

 

এক সেকেন্ডের ভূকম্পন ডাউকি ফলটের বিপদ সংকেত

প্রকাশিত হয়েছে : 2:37:01,অপরাহ্ন 26 October 2017 |
এ সংবাদটি পড়া হয়েছে 647 বার
এক সেকেন্ডের ভূকম্পন ডাউকি ফলটের বিপদ সংকেত

খলিলুর রহমান ::


ষাট বছর বয়সে অনেকবার ভূকম্পন অনুভুত হয়েছে । প্রায় প্রতিবছরই দু’একবার ভুকম্পন অনুভুত হয়ে থাকে । কিন্তু শুক্রবার(২৮এপ্রিল ২০১৭) রাত ১০টা ৫১ মিনিটে সিলেটে ভূকম্পন ‘মৃদু’ বলে আখ্যায়িত করা হলেও এটি ছিল আলাদা ধরন ও প্রকৃতির ভূীমকম্প । মাত্র এক সেকেন্ড বা কম সময়ের একটা ঝাকুনিতেই কেঁপে ওঠে পুরো সিলেট । এর স্থায়ীত্বও এক সেকেন্ডের বেশী ছিল না বলে অনুভুত হয়েছে । সচরাচর ভ’মিকম্প’র শুরু হয় হালকা কাঁপুনী দিয়ে, বড় ঝাকুনীটা হয় মধ্যখানে এবং পরে হালকা কাঁপুনীর মধ্যদিয়েই শেষ হয়ে থাকে । কিন্তু শুক্রবারের ভূমিকম্পের শুরুতে কোন কাঁপুনীই ছিল না । শুরুতেই মস্তবড় একটা ধাক্কা বা ঝাকুনী,যে ঝাকুনীতে সশব্ধে কেঁপে ওঠে ঘরবাড়ি ও ভবন এবং এক্ষুনেই শেষ । পরবর্তী কোন কাঁপুনী বা অফটার শক অনুভুত হয়নি আর । ভূমিকম্প শেষ হতে না হতেই এক সাংবাদিক বন্ধু এটাকে ভূমিকম্পের ‘মিস্ডকল’ বলে অভিহিত করে ফেইসবুকে স্ট্যটাস দিয়েছেন ।  আমারও মনে হয়েছে এটা মোবাইল ফোনের মিস্ডকলের মত কম সময়ে ভূমিকম্পের একটা ‘এলার্ট কল’। এটা যেন যেমে ভূগর্ভে জমে থাকা ধূমায়িত ডাউকি ফলটের আরো একটা বড় ও প্রলয়ংকরি ভূমিকম্পের আগাম বিপদ সংকেত । ভূকম্পনটা শুধুমাত্র সিলেটেই অনুভুত হয়েছে অন্য কোথাও অনুভুত হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি ।

আবহাওয়া অফিসের দেয়া তথ্যমতে রিখটার স্কেলে এ ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল ৪.১ । এর উৎসহস্থল ছিল ভারতের মেঘালয়া রাজ্য । তবে মেঘালয়া রাজ্যের কোন ফল্ট তা জানানো হয়নি । সম্ভবত সিলেট নগরী থেকে ৩০মাইল (৫০কিঃমিঃ) দূরের তামাবিল সীমান্তঘেষা ডাউকি ফল্ট । বিগত ১৮৯৭ সালের ১২ই জুন তৎকালীন ভারতের আসাম প্রদেশের সিলেট জেলায় (বর্তমান বিভাগে) সংঘটিত হয়েছিল ইতিহাসের সবচেয়ে প্রলয়ংকরি ভূমিকম্প । সেই ভূমিকম্পের প্রাবল্য ছিল ৮.১ রিখটার স্কেল । সরকারী হিসেব মতে সে ভূমিকম্পে হতাহতের সংখ্যা ১,৫৪২ জন হলেও বেসরকারী হিসেবে ছিল কয়েক গুন বেশী । তৎকালীন সিলেট জেলার ডাউকি ফলটই ছিল সেই ভূমিকম্পের উৎসহস্থল । সেই ভূমিকম্পকে ছিলটি ভাষায় বলা হয়েছিল ‘বড়ভৈছাল’। প্রবাল্যের তুলনায় ডাউকি ফলটের সেই ভূূমিকম্পে হতাহতের সংখ্যা কম হলেও ক্ষয়-ক্ষতির পরিমান ছিল বিপুল । সূদুর কলকাতা ও দিল্লী এমনকি ভুটান ও বার্মা পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল এর ক্ষয়ক্ষতি । ভারতের বর্তমান মেঘালয়া রাজ্যের রাজধানী শিলং আরো ৩০ ফুট উঁচুতে চলে যায় সেই ভূমিকম্পে । এর আগে খাসিয়া জৈয়ন্তিয়া ও গারো পাহাড়ের পাদদেশী সিলেট ছিল পূর্ববাংলা থেকে তুলনামূলক উঁচু এলাকা । ১৮৯৭ এর বড়ভৈছাল নামের ভূমিকম্পে দেবে যায় পুরো সিলেট ভূমি । সৃষ্টি হয় বড় বড় হাওর ও বিলের । বদলে যায় সবকটি নদীর গতিপথ । তখন থেকেই বন্যা প্রবল এলাকায় পরিণত হয় বর্তমান সিলেট বিভাগ । এর আগে সিলেট কোন বন্যা প্রবল এলাকা ছিলনা বলে আমাদের পূর্বপুরুষরা জানিয়েছেন । শুক্রবার (২৮এপ্রিল) রাতের ভূমিকম্পটির উৎসহস্থল সেই ১৮৯৭সালের প্রলয়ংকরি ভূমিকম্পের উৎসহস্থল ডাউকি । সিলেট বিভাগীয় সদরের অদূরে থাকা মেঘালয়া (পূর্বের খাসিয়া) পাড়াড়ের পাদদেশে থাকা ডাউকি ফলট শুক্রবার রাতে নাড়া দিয়েছিল মাত্র এক সেকেন্ড ।  আরো বড় ধরনের নাড়া দেয়ার আগাম বিপদ সংকেত বলে অনুমিত হচ্ছে ডাউকি ফলটের হালকা এ নাড়া ।

 

 

সংবাদটি ভাল লাগলে শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  



AD

 

 

 

 

 

 

 

devolop ওয়েব হোম বিডি Mobile: 01711-370851